ল্যাপটপ vs ডেস্কটপ। ল্যাপটপ নাকি ডেস্কটপ কোনটা নেবেন ?

ল্যাপটপ নাকি ডেস্কটপ নেব ? আমার মনে হয় ল্যাপটপ নেওয়াটাই ভালো হবে। ল্যাপটপ আমি যেকোনো জায়গায় নিয়ে যেতে পারি। না সম্ভবত ডেস্কটপ নেওয়াই ভালো হবে। ও মাই গড আবার কনফিউশন।

ওকে, যখনই প্রথম আপনি আপনার কাজের জন্য অথবা পড়ালেখার জন্য কম্পিউটার কেনার কথা ভাবেন সম্ভবত আপনি কনফিউজড হয়ে যান যে আসলে আমি কোনটা নিই , ল্যাপটপ নাকি ডেক্সটপ? ল্যাপটপ ভালো হবে, নাকি ডেক্সটপ নেওয়াটা ভালো হবে, দুটোর মধ্যে কোনটা আমার নিজের কাজের জন্য ভালো হবে? ঠিক আছে জানতে চান এর উত্তর ? উত্তর এর জন্য আপনি পুরো পোস্টটি পড়ুন আপনার সকল ডাউট ক্লিয়ার হয়ে যাবে।

ওকে দোস্ত আমার নাম তামিম হালদার। প্রতিবারের মত আপনাকে আমার এই ওয়েবসাইটে স্বাগতম জানাচ্ছি। ডেক্সটপ নাকি ল্যাপটপ নেওয়া আপনার জন্য ঠিক হবে এটা জানার জন্য আমাদের ল্যাপটপ এবং ডেক্সটপ এর মধ্যে পার্থক্য কি সেটা ভালোভাবে জানা দরকার। জানার পর আপনি নিজেই ডিসাইড করতে পারবেন যে আসলে আমি এই দুইটার মধ্যে কোনটা নিই।

ল্যাপটপ নাকি ডেস্কটপ কোনটা নেবেন ?

১. মূল্য

যখনই আপনি একটি নতুন সিস্টেম কিনতে চান , তো সর্বপ্রথম আপনি এটাই ভাবেন যে এগুলোর মূল্য কেমন হবে ? আপনি প্রতিবারের মত একটি বাজেট তৈরি করেন যে আমি এর উপরে কিছু কিনতে পারব না। তো আমি আপনাকে বলে দেই যত কম্পিউটার হয় সেটা সস্তা হয় ল্যাপটপ এর তুলনায়। মনে করেন আপনার বাজেট 30000 টাকার আশেপাশে , তো আপনি 30000 টাকার মধ্যে ল্যাপটপ কেনার কথা ভাবলেন তো আপনি দেখলেন 30 হাজার টাকায় যে ল্যাপটপ আপনি পাচ্ছেন সেটার স্পেসিফিকেশন আপনার জন্য প্রয়োজনের তুলনায় কম হয়ে যাচ্ছে।

কিন্তু যদি আপনি এই 30000 টাকার মধ্যেই একটি ডেস্কটপ কেনেন তাহলে দেখবেন আপনি একটি সুন্দর ডেক্সটপ পেয়ে যাবেন, যেখানে আপনি আপনার প্রয়োজনে স্পিসিফিকেশন , পারফরম্যান্স ল্যাপটপ এর তুলনায় বেশি ভালো পাবেন। সূতরাং এখানে এটা স্পষ্ট যে, যদি আপনার বাজেট কম তবে ভালো স্পেসিফিকেশন পেতে চান তাহলে ডেক্সটপ এর সাথে যেতে পারেন।

২.পোর্টেবিলিটি

ল্যাপটপ এবং ডেক্সটপ এর মধ্যে সর্বোচ্চ ডিফারেন্স আসে এই পোর্টাবিলিটির ক্ষেত্রেই । এই সেটা হল আপনি ল্যাপটপ কোথাও নিয়ে যেতে পারেন। এক জায়গা থেকে অন্য কোন জায়গায় আপনি সহজেই একটি ল্যাপটপ বহন করে নিয়ে যেতে পারেন। আপনার বেশি সমস্যা হবে না আপনি শুধু আপনার ল্যাপটপটি একটি ব্যাগের মধ্যে নিয়ে কোথাও রওনা হতে পারেন আর আপনি সেখানে এটার ব্যবহার করতে পারেন।

কিন্তু যদি বলি ডেক্সটপে কথা,তাহলে এটি এক জায়গা থেকে অন্য এক জায়গাতে নিয়ে যাওয়া এতটা সহজ নয়। কারণ এর সাথে কানেক্টেড থাকে মনিটর, সিপিইউ, মাউস,কিবোর্ড আরো অনেক কম্পনেন্ট কম্পিউটারের সাথে কানেক্টেড থাকে, যার কারণে এটাকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া এতটা সহজ নয়। তাই এখানের সিম্পল ভাবে বলা যায় যদি আপনার কাজের ধরনই হয়ে থাকে যে আপনাকে বিভিন্ন জায়গাতে গিয়ে মিটিং করতে হয়, অফিসে যেতে হয় আর বারবার আপনাকে কম্পিউটার এর প্রয়োজন পড়ে , তবে অবশ্যই আপনাকে ল্যাপটপ নেওয়া দরকার আপনার জন্য ল্যাপটপ ভাল অপশন হবে।

কিন্তু যদি এখানে আপনার কাজগুলো বাইরে যাওয়ার জন্য না হয় আপনি বেশি বাইরে ঘোরাফেরা না করেন, আপনার যে কাজগুলো আছে সেটা একটি নির্দিষ্ট জায়গায় বসে করা দরকার হয়, তো আপনার জন্য ডেক্সটপ নেওয়াটা বেশি ভালো হবে।

৩.স্ক্রীন সাইজ

কম্পিউটারের জন্য এটা বেশি সুবিধাজনক যে আপনি আপনার যত বড় স্ক্রীনসাইজ মনিটর প্রয়োজন সেটা আপনি ব্যবহার করতে পারবেন। মনে করেন আপনার কাছে বর্তমান যেমনিটরটি রয়েছে সেটার সাইজ আপনার জন্য সুবিধাজনক হচ্ছেনা, তখন আপনি চাইলেই আপনার মনিটরের টিকে বদলিয়ে নিতে পারেন আর আপনার প্রয়োজনীয় অনুসার বড় সাইজের মনিটর কিনে এর সাথে কানেক্ট করতে পারেন।

আর যদি এখানে আমরা ল্যাপটপের কথা বলি তাহলে আপনারা অবশ্যই জানেন ল্যাপটপের স্ক্রিন সাইজ ফিক্সড করে রাখা হয়। ল্যাপটপ যে স্ক্রিন লাগানো রয়েছে সেটাকে রিপ্লেস করে অন্য একটি মনিটর লাগানো সম্ভব নয়। একথা ভিন্ন যে আপনি চাইলে আলাদাভাবে প্রজেক্টর এর ব্যবহার করতে পারেন, এক্সটার্নাল মনিটর কানেক্ট করতে পারেন।

তো এখানে এককথাই যদি আপনার একটি বড় মনিটর দরকার যেখানে আপনি ভিডিও এডিটিং, ৪কে ভিডিও এডিটিং করতে চান ওর যেখানে আপনার বড় মনিটরের প্রয়োজন ,তো সেখানে আপনাকে নিশ্চয়ই ডেক্সটপ এর সাথে যাওয়া উচিত। যেখানে আপনি প্রয়োজন অনুসারে আপনার মনিটরের সাইজ ছোট বড় করতে পারেন আর যদি আপনি একটি ফিক্সড সাইজ স্ক্রীন দিয়ে খুশি থাকেন তাহলে আপনাকে ল্যাপটপ নেওয়াই ভাল হবে।

৪.আপগ্রেডিং

এটাও সবচেয়ে ইম্পরট্যান্ট আর সবচেয়ে বেশি ডিফারেন্স রাখে ডেস্কটপ এর মধ্যে ল্যাপটপ।ডেস্কটপে আপনি আপনার প্রয়োজন অনুসারে এটাকে কাস্টমাইজ করতে পারেন। যেকোনো কম্পনেন্টস অথবা পার্টস যদি আপনি আপডেট করে নিতে চান তাহলে আপনি ইজিলি এটা করতে পারেন।

উদাহরণ হিসাবে মনে করেন আপনি এখন যে প্রসেসরটি ইউজ করতেছেন অথবা ডেস্কটপ একটু স্লো চলতেছে তখন আপনি এটাকে আপডেট করতে চাচ্ছেন অথবা স্টোরেজঃ বাড়াতে চাচ্ছেন, রেম বাড়াতে চাচ্ছেন অথবা অন্য কোন কম্পনেন্ট আপডেট করতে চাচ্ছেন , নতুন করে লাগাতে চান তো সেসব জিনিস আপনি ইজিলি ডেক্সটপ এর সাথে করতে পারেন। আর যদি ল্যাপটপের কথা বলি তাহলে এইসব আপনি ল্যাপটপে করতে পারেন না। হ্যাঁ আপনি ল্যাপটপের রেম বাড়াতে পারেন কিন্তু তার জন্য আপনাকে একজন এক্সপার্ট এর দরকার পড়বে।

তো এখানে সিম্পল কথা এটা যে যদি আপনি যদি কোন এমন সিস্টেম নিতে চান যেটা আপনি পরে যেয়ে আপডেট করতে চান ,আমরা সবাই জানি যেকোনো সিস্টেম একটা সময় যেয়ে খারাপ অথবা স্লো হয়ে যায় এবং আমাদের সেটাকে আপডেট করাতে হয়। তো এখানে যদি আপনি কোন এমন সিস্টেম চান, যেটা আপনি পরে যেযে আপডেট করতে চান ,আপনি পুরো একটি নতুন সিস্টেম নিতে চান না শুধু আপনার জন্য সিস্টেম রয়েছে সেটা আপডেট করতে চান ,তখন আপনি ডেফিনেটলি ডেস্কটপের সাথে করতে সহজে করতে পারেন কিন্তু আপনি এগুলো ল্যাপটপের সাথে করতে পারবেন না।

৫.পারফরম্যান্স

তারপর আসে পারফরম্যান্স এর কথাই।যখনই আপনি একটি নতুন ল্যাপটপ অথবা ডেস্কটপ কেনেন তো সেখানে পারফরম্যান্স টপ প্রায়োরিটি হয়ে থাকে কি , যে সিস্টেমটি আপনি কিনেছেন তার পারফরম্যান্স যেনো টপ লেভেল এর হয়। তো এখানে আমি একটা কথা আপনাকে বলে দেই সেটা হলো যদি পারফরম্যান্সের কথা বলি তো পারফর্ম এর দিক দিয়ে ডেস্কটপ ; ল্যাপটপ এর তুলনায় একটু আগে অবশ্যই হবে।

আর এই জন্যই আপনি অবশ্যই দেখে থাকবেন যত গেমার্স হয়ে থাকে তারা ডেক্সটপে এই গেম খেলে থাকে, যত বড় বড় ভিডিও এডিটিং হয়ে থাকে সেটাও ডেস্কটপেই হয়ে থাকে কারণ এখানে যে পারফরম্যান্স আছে সেটা আপনি একটু বেশি পাবেন ল্যাপটপ এর তুলনায়। আর যদি আপনি একটি ল্যাপটপ কিনতে চান যেটার পারফরম্যান্স অনেক সুন্দর, টপ লেভেলের তো আপনাকে সেই ধরনের ল্যাপটপ কেনার জন্য অনেক বাজেট থাকতে হবে ,কারণ সেগুলোর মূল্য অনেক বেশি থাকে।

শেষ কথা হলো এটা যদি আপনাকে কোন এমন ধরনের সিস্টেম দরকার যেখানে আপনি গেমিং করতে চান, পারফরম্যান্স অনেক সুন্দর, আপনি ভিডিও এডিটিং করতে চান বড় স্ক্রিন চান অথবা আপনার সিস্টেমকে যেকোনো সময় আপগ্রেড করতে চান তো কোন ডাউট নেই যে আপনাকে ডেস্কটপ নিতে হবে।

তো এটা ছিল কিছু ল্যাপটপ অর ডেক্সটপ এর মধ্যে পার্থক্য তো এখানে দেখা যায় তো সবদিক দিয়েই ডেক্সটপ একটু আগে থাকে ল্যাপটপ এর তুলনায়। এখন এখানে ল্যাপটপ নাকি ডেস্কটপ সেটা আপনার নিজের উপর ডিপেন্ড করবে কি আপনি কি ধরনের কাজের জন্য এটি কিনতে চাচ্ছেন।

আপনি যে কাজগুলো করেন সেটি বেশিরভাগ বাইরে হয়ে থাকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গা ট্রাভেল করে বেড়াতে হয় এখানে কোন ডাউট নেই যে আপনাকে অবশ্যই ল্যাপটপ কিনতে হবে। আর যদি আপনাকে পারফরম্যান্স ভালো চাই ,স্বল্প বাজেটের মধ্যে আর আপনি বেশি ট্রাভেল না করেন আপনার যে কাজগুলো আছে সেইগুলো বাড়িতে বসেই করতে হয় ,তাহলে অবশ্যই আপনাকে ডেক্সটপ নেয়া উচিত।

আপনি কোনটা নিবেন এটা আপনার নিজের উপর ডিপেন্ড করে। তো আমার মনে হয় এখন আপনি বুঝতে পারছেন আপনার কোনটি নেওয়া উচিত।আমাকে কমেন্ট করে জানান কি কাজের জন্য আপনি কি ধরনের সিস্টেম নিচ্ছেন। আগের পোষ্টের জন্য অপেক্ষায় থাকার জন্য অনুরোধ করছি। ধন্যবাদ।

Leave a Comment